সীরাহ অডিও

ঝমঝম বৃষ্টি পড়ছে। পাতায় পাতায় হুটোপুটির শব্দ। কংক্রিটের ছাদে আবার সেই শব্দ অনেকটাই গম্ভীর। থেমে থেমে মেঘের নিনাদ। হঠাৎ চেঁচিয়ে ওঠা কালাশনিকভের গুলিতে নিথর মৃতদেহ। মৃত্যুর আগে শুধু অস্ফুট আর্তনাদ। আচমকা বারুদের এই গর্জনে ভয় পেয়ে কেঁদে ওঠে নিচের তলার শিশু। অস্ত্রের ধমককে বজ্রের হুঙ্কার ভেবে বাচ্চাকে অভয় দেন মা। ঘুমপাড়ানি গানের নেশালাগা গুনগুনে ধীরে ধীরে স্তিমিত হয় ছোট্ট হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানি। ওদিকে ঝমঝমিয়ে নেমে আসা বৃষ্টি আর নিঃশব্দে শরীরে বয়ে চলা উষ্ণ রক্ত লাশ থেকে বেরিয়ে আচমকাই এক হয়ে কলকল করে বয়ে যায় ঢাল বেয়ে। — কত কাছাকাছি সব শব্দ, অথচ কত ভিন্ন তাদের অনুভূতি। কত দৃশ্যই না কল্পনায় তৈরি করে একেকটা শব্দ।

শব্দ, দৃশ্য, ঘ্রাণ, স্পর্শ – এটুকু দিয়েই তো মানুষ দুনিয়াটাকে নিজের ভেতর ধারণ করে। এসব ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতা দিয়েই মানুষ গড়ে, মানুষ ভাঙে… বদলায়। আচ্ছা, এর মধ্যে কোনটা মানুষকে বেশি প্রভাবিত করে? মনে হয় শব্দ। শব্দেই দুমড়ে মুচড়ে যায় অন্তর। শব্দেই হৃদয় স্পন্দিত হয় শান্তির তরঙ্গে। শব্দেই মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে যুদ্ধ করতে কিংবা শান্তি আনতে।

ইতিহাসও কিন্তু তাই বলে। শ্রবণেন্দ্রিয় পথেই একটা জাতির খোলনলচে পালটে দিয়েছিল কুরআন। ওয়াহির শব্দ সিজদায় ফেলে মুশরিকদের, পাথরসম অন্তর ভেঙে ফোয়ারা ছোটায় উমারের অন্তরে। যুগ থেকে যুগ যুগান্তরে, আজও মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়ে সেই শব্দে। এই শব্দে উঠে দাঁড়ায়, প্রাণ দেয় , প্রাণ নেয়। কই শব্দ তো আমরাও শুনি। নেতার মিথ্যাচার, উদ্ধতের আস্ফালন, আহতের চিৎকার, নিহতের নীরবতা। কিন্তু সেই শব্দ কোথায় যা জীবন্মৃতকে জাগাবে, অহংকারীকে কাঁপাবে, ভীরুকে দিবে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর আর মজলুমকে করবে শক্তিধর? সেই শব্দ খুঁজে পেতে তাই ফিরে যেতে হবে সেই মানুষের জীবনে, যার মুখনিঃসৃত শব্দ একদিন এনে দিয়েছিল এই সবই। আর এমন জীবনী উজ্জীবিত করতে শব্দের চেয়ে উত্তম মাধ্যম আর কি-ইবা হতে পারে?

তাই শব্দ দিয়েই বদলে দিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন নিয়ে রেইনড্রপসের নতুন অডিও সিরিজ — সীরাহ অডিও।

এই শব্দে বদলে গিয়ে আরও বলিষ্ঠ শব্দে একে ছড়িয়ে দিতে আপনি প্রস্তুত তো ?

পর্ব ০১ | কেমন ছিলেন তিনি?
শব্দ, দৃশ্য, ঘ্রাণ, স্পর্শ – এটুকু দিয়েই তো মানুষ দুনিয়াটাকে নিজের ভেতর ধারণ করে। এসব ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতা দিয়েই মানুষ গড়ে, মানুষ ভাঙে… বদলায়। আচ্ছা, এর মধ্যে কোনটা মানুষকে বেশি প্রভাবিত করে? মনে হয় শব্দ। শব্দেই দুমড়ে মুচড়ে যায় অন্তর। শব্দেই হৃদয় স্পন্দিত হয় শান্তির তরঙ্গে। শব্দেই মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে যুদ্ধ করতে কিংবা শান্তি আনতে। ইতিহাসও কিন্তু তাই বলে। শ্রবণেন্দ্রিয় পথেই একটা জাতির খোলনলচে পালটে দিয়েছিল কুরআন। ওয়াহির শব্দ সিজদায় ফেলে মুশরিকদের, পাথরসম অন্তর ভেঙে ফোয়ারা ছোটায় উমারের অন্তরে। বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ০২ | সীরাহ জানার গুরুত্ব
ইসলামের আলো যতো নিভু নিভু হোক না, এই আলো কখনো নিভে যাবে না। একজন মুসলিম যতো গুনাহগার হোক না কেন, অন্তরের অন্ধকার গহীনে কোনো না কোনো একখানে একবিন্দু আলো তাকে মুসলিম হতে প্রেরণা যুগিয়ে যায়, রাসূলুল্লাহর (সা) দেখানো পথে ঠেলে দিতে চায়। মুসলিমদের অবস্থা সামগ্রিকভাবে যতো খারাপই হোক না কেন, একদল মুসলিম ঠিকই আজও মানুষের মাঝে ইসলামকে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। ইসলামের দুশমনরা জানে, ইসলামের এই নিভু নিভু আলো যেকোনো সময় দপ করে জ্বলে উঠতে পারে। কেননা এই আলোর চালিকাশক্তি হলেন আল্লাহর বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ০৩ | প্রাক ইসলামী যুগে  পৃথিবীর অবস্থা
চারিদিকে ঘুটঘুটে কালো অন্ধকার, আশেপাশে কোনো আলো নেই। নিজের হাতের অস্তিত্বই বুঝা যাচ্ছে নাহ, গন্তব্যের পথ খুঁজে পাওয়ার কথা বলাই বাহুল্য। পথ চলতে গেলে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা ষোলআনা। খুব ভালো হয় যদি কোনো আলো খুঁজে পাওয়া যায়, আরও ভালো হয় যদি কোনো পথ নির্দেশক সঠিক পথের সন্ধান দিয়ে দেয়।  কিন্তু এমন পথ নির্দেশক কোথা থেকে আসবে?প্রাক ইসলামি যুগে সমগ্র আরবেই শুধু নয় বরং পুরো বিশ্ব জুড়েই ভয়াবহ অন্ধকার বিরাজমান ছিল। এই অন্ধকার ছিল শির্কের, মূর্তি পূজার আর ধর্মীয় নেতাদের অন্ধ অনুসরণের। বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ০৪ | রাসূলুল্লাহর সা. জন্ম
নিঃসন্দেহে পৃথিবীর বুকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন একটা বিশাল ঘটনা। বড় কোনো ঘটনা ঘটার আগে যেমন অনেকগুলো ছোটো ছোটো আয়োজন থাকে, ঠিক তেমনই, রাসূল্ললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের আগে আরবের বুকে ঘটে যায় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা, বলা যেতে পারে — সিরিজ অফ ইভেন্ট! এরকমই কিছু ঘটনা আলোচনা করে আমরা এই পর্বে প্রবেশ করবো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে — তাঁর জন্ম, তাঁর শৈশব আর বেড়ে ওঠা। এই পর্বে যা যা আলোচিত হবে, বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ০৫ | রাসূলুল্লাহর সা. জীবনে নবুওয়াত পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা
অনেক বছর আগের কথা। তখন বিনোদনের মাধ্যম বলতে এখনকার সময়ের মতো কিছু ছিল না। লোকজন বিনোদনের জন্য বিভিন্ন আসরে যেত, কবিতা আর সাহিত্য চর্চা করতো। এক মেষপালকেরও ইচ্ছা হলো আসরে যাওয়ার। কিন্তু মেষপালের দেখা শুনার ব্যবস্থা না করে যাওয়া যাবে না। সে তার মেষপালক বন্ধুকে অনুরোধ করলো নিজের মেষপালকে দেখে রাখার যাতে সে আসরে যেতে পারে। তার বন্ধু রাজি হলো এবং ঐ মেষপালক আসরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। আসরের কাছাকাছি আসতেই সে আসরের সুরেলা ধ্বনি শুনতে পেল। এই সময়েই এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। বিস্তারিত
ডাউনলোড