সীরাহ অডিও

ঝমঝম বৃষ্টি পড়ছে। পাতায় পাতায় হুটোপুটির শব্দ। কংক্রিটের ছাদে আবার সেই শব্দ অনেকটাই গম্ভীর। থেমে থেমে মেঘের নিনাদ। হঠাৎ চেঁচিয়ে ওঠা কালাশনিকভের গুলিতে নিথর মৃতদেহ। মৃত্যুর আগে শুধু অস্ফুট আর্তনাদ। আচমকা বারুদের এই গর্জনে ভয় পেয়ে কেঁদে ওঠে নিচের তলার শিশু। অস্ত্রের ধমককে বজ্রের হুঙ্কার ভেবে বাচ্চাকে অভয় দেন মা। ঘুমপাড়ানি গানের নেশালাগা গুনগুনে ধীরে ধীরে স্তিমিত হয় ছোট্ট হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানি। ওদিকে ঝমঝমিয়ে নেমে আসা বৃষ্টি আর নিঃশব্দে শরীরে বয়ে চলা উষ্ণ রক্ত লাশ থেকে বেরিয়ে আচমকাই এক হয়ে কলকল করে বয়ে যায় ঢাল বেয়ে। — কত কাছাকাছি সব শব্দ, অথচ কত ভিন্ন তাদের অনুভূতি। কত দৃশ্যই না কল্পনায় তৈরি করে একেকটা শব্দ।

শব্দ, দৃশ্য, ঘ্রাণ, স্পর্শ – এটুকু দিয়েই তো মানুষ দুনিয়াটাকে নিজের ভেতর ধারণ করে। এসব ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতা দিয়েই মানুষ গড়ে, মানুষ ভাঙে… বদলায়। আচ্ছা, এর মধ্যে কোনটা মানুষকে বেশি প্রভাবিত করে? মনে হয় শব্দ। শব্দেই দুমড়ে মুচড়ে যায় অন্তর। শব্দেই হৃদয় স্পন্দিত হয় শান্তির তরঙ্গে। শব্দেই মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে যুদ্ধ করতে কিংবা শান্তি আনতে।

ইতিহাসও কিন্তু তাই বলে। শ্রবণেন্দ্রিয় পথেই একটা জাতির খোলনলচে পালটে দিয়েছিল কুরআন। ওয়াহির শব্দ সিজদায় ফেলে মুশরিকদের, পাথরসম অন্তর ভেঙে ফোয়ারা ছোটায় উমারের অন্তরে। যুগ থেকে যুগ যুগান্তরে, আজও মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়ে সেই শব্দে। এই শব্দে উঠে দাঁড়ায়, প্রাণ দেয় , প্রাণ নেয়। কই শব্দ তো আমরাও শুনি। নেতার মিথ্যাচার, উদ্ধতের আস্ফালন, আহতের চিৎকার, নিহতের নীরবতা। কিন্তু সেই শব্দ কোথায় যা জীবন্মৃতকে জাগাবে, অহংকারীকে কাঁপাবে, ভীরুকে দিবে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর আর মজলুমকে করবে শক্তিধর? সেই শব্দ খুঁজে পেতে তাই ফিরে যেতে হবে সেই মানুষের জীবনে, যার মুখনিঃসৃত শব্দ একদিন এনে দিয়েছিল এই সবই। আর এমন জীবনী উজ্জীবিত করতে শব্দের চেয়ে উত্তম মাধ্যম আর কি-ইবা হতে পারে?

তাই শব্দ দিয়েই বদলে দিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন নিয়ে রেইনড্রপসের নতুন অডিও সিরিজ — সীরাহ অডিও।

এই শব্দে বদলে গিয়ে আরও বলিষ্ঠ শব্দে একে ছড়িয়ে দিতে আপনি প্রস্তুত তো ?

পর্ব ০১ | কেমন ছিলেন তিনি?
শব্দ, দৃশ্য, ঘ্রাণ, স্পর্শ – এটুকু দিয়েই তো মানুষ দুনিয়াটাকে নিজের ভেতর ধারণ করে। এসব ইন্দ্রিয়লব্ধ অভিজ্ঞতা দিয়েই মানুষ গড়ে, মানুষ ভাঙে… বদলায়। আচ্ছা, এর মধ্যে কোনটা মানুষকে বেশি প্রভাবিত করে? মনে হয় শব্দ। শব্দেই দুমড়ে মুচড়ে যায় অন্তর। শব্দেই হৃদয় স্পন্দিত হয় শান্তির তরঙ্গে। শব্দেই মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে যুদ্ধ করতে কিংবা শান্তি আনতে। ইতিহাসও কিন্তু তাই বলে। শ্রবণেন্দ্রিয় পথেই একটা জাতির খোলনলচে পালটে দিয়েছিল কুরআন। ওয়াহির শব্দ সিজদায় ফেলে মুশরিকদের, পাথরসম অন্তর ভেঙে ফোয়ারা ছোটায় উমারের অন্তরে। বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ০২ | সীরাহ জানার গুরুত্ব
ইসলামের আলো যতো নিভু নিভু হোক না, এই আলো কখনো নিভে যাবে না। একজন মুসলিম যতো গুনাহগার হোক না কেন, অন্তরের অন্ধকার গহীনে কোনো না কোনো একখানে একবিন্দু আলো তাকে মুসলিম হতে প্রেরণা যুগিয়ে যায়, রাসূলুল্লাহর (সা) দেখানো পথে ঠেলে দিতে চায়। মুসলিমদের অবস্থা সামগ্রিকভাবে যতো খারাপই হোক না কেন, একদল মুসলিম ঠিকই আজও মানুষের মাঝে ইসলামকে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। ইসলামের দুশমনরা জানে, ইসলামের এই নিভু নিভু আলো যেকোনো সময় দপ করে জ্বলে উঠতে পারে। কেননা এই আলোর চালিকাশক্তি হলেন আল্লাহর বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ০৩ | প্রাক ইসলামী যুগে  পৃথিবীর অবস্থা
চারিদিকে ঘুটঘুটে কালো অন্ধকার, আশেপাশে কোনো আলো নেই। নিজের হাতের অস্তিত্বই বুঝা যাচ্ছে নাহ, গন্তব্যের পথ খুঁজে পাওয়ার কথা বলাই বাহুল্য। পথ চলতে গেলে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা ষোলআনা। খুব ভালো হয় যদি কোনো আলো খুঁজে পাওয়া যায়, আরও ভালো হয় যদি কোনো পথ নির্দেশক সঠিক পথের সন্ধান দিয়ে দেয়।  কিন্তু এমন পথ নির্দেশক কোথা থেকে আসবে?প্রাক ইসলামি যুগে সমগ্র আরবেই শুধু নয় বরং পুরো বিশ্ব জুড়েই ভয়াবহ অন্ধকার বিরাজমান ছিল। এই অন্ধকার ছিল শির্কের, মূর্তি পূজার আর ধর্মীয় নেতাদের অন্ধ অনুসরণের। বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ০৪ | রাসূলুল্লাহর সা. জন্ম
নিঃসন্দেহে পৃথিবীর বুকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন একটা বিশাল ঘটনা। বড় কোনো ঘটনা ঘটার আগে যেমন অনেকগুলো ছোটো ছোটো আয়োজন থাকে, ঠিক তেমনই, রাসূল্ললাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের আগে আরবের বুকে ঘটে যায় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা, বলা যেতে পারে — সিরিজ অফ ইভেন্ট! এরকমই কিছু ঘটনা আলোচনা করে আমরা এই পর্বে প্রবেশ করবো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনে — তাঁর জন্ম, তাঁর শৈশব আর বেড়ে ওঠা। এই পর্বে যা যা আলোচিত হবে, বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ০৫ | রাসূলুল্লাহর সা. জীবনে নবুওয়াত পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা
অনেক বছর আগের কথা। তখন বিনোদনের মাধ্যম বলতে এখনকার সময়ের মতো কিছু ছিল না। লোকজন বিনোদনের জন্য বিভিন্ন আসরে যেত, কবিতা আর সাহিত্য চর্চা করতো। এক মেষপালকেরও ইচ্ছা হলো আসরে যাওয়ার। কিন্তু মেষপালের দেখা শুনার ব্যবস্থা না করে যাওয়া যাবে না। সে তার মেষপালক বন্ধুকে অনুরোধ করলো নিজের মেষপালকে দেখে রাখার যাতে সে আসরে যেতে পারে। তার বন্ধু রাজি হলো এবং ঐ মেষপালক আসরের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। আসরের কাছাকাছি আসতেই সে আসরের সুরেলা ধ্বনি শুনতে পেল। এই সময়েই এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ০৬ | খাদিজা রা. এর সাথে রাসূলুল্লাহ সা. এর বিয়ে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সাহাবিদের আশ্রয়স্থল। সাহাবিরা তাঁর কাছে এলে ঈমানে বলীয়ান হতেন, তাঁর কাছে শান্তি পেতেন। এমনকি যুদ্ধের ময়দানে সাহাবিরা তাঁর চারপাশে আশ্রয় নিতেন। রাসূলুল্লাহ (সা) ছিলেন তাদের সকল বিপদে ঢালস্বরুপ। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা) কি একজন মানুষ নন? তাঁর নিজের কি কোনো কমফোর্ট প্রয়োজন নেই? যখন তাঁর দাওয়াহ প্রত্যাখ্যাত হতে লাগলো,  লোকে তাঁর নামে আজে-বাজে বকতে লাগলো, সমগ্র সমাজ তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেলো, দিনের পর দিন মানুষ তাঁর আহবানকে ফিরিয়ে দিতে বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ০৭ | হুনাফাদের গল্প
‘…কী করবো ভাই বলেন! নামাযটা তো পড়া হয় না! আসলে আল্লাহ তো হিদায়াত দিচ্ছেন না, উনি হিদায়াত দিলেই বদলে যাবো ভাই!’এই কথাগুলো নতুন কিছু নয়। আমরা প্রায় নিজেদের অলসতা, নিষ্ক্রিয়তা এবং গুনাহের ভার আল্লাহর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার জন্য এই ধরণের অজুহাত তৈরি করি। যেন আমার মন পরিষ্কার, আমি বদলাতেই চাই, আমি ইসলাম মানতে চাই — কিন্তু আল্লাহই আমাকে ইসলামের দিকে হিদায়াত করছেন না! সত্যের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে আমরা অনেকগুলো অজুহাতের মিথ্যা দরজা বানিয়ে রেখেছি। আর তেমনই একটি দরজা হলো বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ০৮ | কেমন ছিল আরব সমাজ?
এ কথা আমরা সবাই জানি, ইসলাম পূর্ব যুগে আরবরা ছিল একটি বর্বর জাতি। নিয়ম-নীতির বালাই ছিল না, আইন কানুনের তোয়াক্কা ছিল না। অথচ সে সময় জ্ঞান-বিজ্ঞানে, প্রযুক্তি আর নিয়মতান্ত্রিকতার বিচারের অন্য জাতি আর সভ্যতাগুলো বেদুইন আরবদের চাইতে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল। পারস্যের বুরোক্রেসি আর আভিজাত্য, রোমানদের সমরবিদ্যায় পারদর্শিতা, গ্রীসে দর্শনশাস্ত্রের চর্চা আর মেধা থাকা সত্ত্বেও কেন আরবের রুক্ষ মরু অঞ্চল নবুওয়াতের জন্য নির্বাচিত হলো? নিরক্ষর বর্বর এই আরবদের মাঝে কী এমন ছিল যার কারণে আর সবাইকে বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ০৯ | জিবরীল আ. এর আগমন
দিনগুলো কেমন যেন বদলে গেছে। মানুষের সঙ্গ তাঁর খুব একটা ভালো লাগছে না। ভালো লাগছে একাকীত্ব আর নির্জনতা। দিনগুলি কেটে যাচ্ছে আল্লাহর কথা ভেবে, আল্লাহর সৃষ্টির কথা ভেবে। দুনিয়ার ব্যস্ততা, চাপ আর ক্লান্তি থেকে দূরে থেকে ভালোই লাগছে তাঁর।আরো ঘটছে কিছু অদ্ভূত ঘটনা। যে-স্বপ্নই তিনি দেখছেন, সেটাই সত্য হচ্ছে! যেভাবে দেখছেন, অবিকল সেভাবে! প্রভাত যেভাবে প্রস্ফুটিত হয়, স্বপ্নগুলো ঠিক সেভাবেই বাস্তবে রূপ নিচ্ছে! এভাবে কেটে গেল ছয়টি মাস। রাসূলুল্লাহ (সা) একাকি-নির্জনে, শান্ত-নিবিষ্ট মনে বসে আছেন, তখনই তাঁর বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ১০ | যারা ছিলেন অগ্রগামী
শুরুটা হয়েছিল সূরা আলাক্বের ‘ইক্বরা’ দিয়ে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়াহীর সময়ে নাযিল যে আয়াত নাযিল হয়েছে তার শুরু হল সূরা মুযযাম্মিল ও সূরা মুদ্দাসসিরের ‘ক্বুম’ দিয়ে। অল্প কিছু কথা, কিন্তু গভীর সেগুলোর প্রভাব।যারা ইসলামের দিকে আহবান করেন, তাদের জন্য এই আয়াতগুলো একটি নির্দেশিকা বা ম্যানুয়াল বুক হিসেবে কাজ করে। এই তিনটি ওয়াহীকে সংক্ষেপে বলা যেতে পারে ইক্বরা, কুম, কুম। এই আয়াতগুলোই প্রথম যুগের মুসলিমদেরকে দা’ওয়াহর ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেয়। প্রথম আদেশটি হলো “ইক্বরা”। এর মাধ্যমে তিলাওয়াত বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ১১ | প্রতিক্রিয়া
তারা ভেবেছিল তাঁকে অপমান করলে তিনি চুপসে যাবেন। না! তিনি মুষড়ে পড়ার মানুষ নন। তারা চাইছিল হুমকি দিয়ে তাঁকে দাবিয়ে রাখবে। না! নিজের নিরাপত্তার ভয়ে চুপ করে থাকার মতো মানসিকতা তাঁর নয়। তারা ষড়যন্ত্র করছিল মিডিয়া ক্যাম্পেইন করে তাঁর নামে মিথ্যার বেসাতি ছড়ালে মানুষ তাঁকে অগ্রাহ্য করবে। না! বরং তিনিই তাদের অগ্রাহ্য করে সত্য আদর্শের প্রতি মানুষকে আহবান করে গেছেন। তারা মনে করেছিল টাকা কিংবা সুন্দরী নারীর ‘অফার’ দিয়ে তাঁকে কিনে ফেলবে। না! তাঁর এক হাতে সূর্য আর আরেক হাতে  বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ১২ | প্রতিক্রিয়া পর্ব ২
‘শান্তি’ একটা অদ্ভূত শব্দ। আমরা সবাই শান্তি চাই, কিন্তু হয় শান্তি কী জিনিস আমরা তা বুঝি না, অথবা বুঝলেও নিজের মতো করে শান্তিকে সংজ্ঞায়িত করি। একজন জালিম যখন ক্ষমতার আসনে আসীন হয়, তখন প্রতিবাদ ওঠে, বিদ্রোহ হয়, রক্ত ঝড়ে। সেটাকে আমরা ‘অশান্তি’ বলি। কিন্তু বিদ্রোহ দমন করে, মানুষ হত্যা করে, সমস্ত কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিয়ে যালিম যখন ক্ষমতার আসনে পাকাপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে, তখন আমরা বলি ‘দেশে শান্তি আছে!’ মিথ্যা যখন সত্যের গলা চেপে ধরে, জুলুম যখন ইনসাফের পথকে রুদ্ধ করে দেয় — তখন চায়ের কাপে চুমুক  বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ১৩ | তারা অত্যাচারিত হয়েছিলেন
কষ্টের সংজ্ঞা আসলে কী? আমাদের চোখে কষ্ট মানে জীবনের জন্য কষ্ট। অনেক পরিশ্রম করে একটা ছেলে ভালো ফল করে যখন শহরে এসে ভালো চাকুরি করে দিন গুণতে থাকে — সেই দৃশ্য দেখে বলি, ‘আহ! ছেলেটা জীবনে অনেক কষ্ট করে জীবনে বড় হয়েছে!’ আমাদের আটপৌরে জীবনে কষ্ট বলতে আমরা কেবল বুঝি পড়ালেখার জন্য পরিশ্রম, সুটেড-বুটেড হয়ে কর্পোরেট মই বেয়ে ওপরে ওঠার সংগ্রাম, প্রচণ্ড গরমে বাসে দাঁড়িয়ে সিদ্ধ হবার বেদনা, প্রেমিকাকে না পেয়ে প্রেমিকের স্বপ্নভঙ্গ…কতোই না ক্লিশে, কতোই না সংকীর্ণ! মানুষ বড় অদ্ভুত! বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ১৪ | রাসূলুল্লাহর সা. দাওয়াহ
আজকের এই পর্বে আমরা রাসূলুল্লাহর (সা) দাওয়াতের প্রাথমিক পর্যায়ের কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। প্রথমে আলোচনা শুরু করা যাক মাক্কী জীবনের দাওয়াত নিয়ে। আমরা সবাই জানি দীর্ঘ তেরো বছরের মাক্কী জীবনে আল্লাহর রাসূল (সা) মানুষকে ইসলামের দিকে আহবান করেছেন। কিন্তু কী ছিল তার আহবান? তাঁর দাওয়াতের মূল বিষয়বস্তু কী ছিল? মাক্কী যুগে নাযিল হওয়া আয়াতগুলো যদি আমরা দেখি, সেগুলোর মূল থিম কয়েকটা বিষয়কে কেন্দ্র করে। সেগুলো হচ্ছে — তাওহীদ, রিসালাহ, পূর্ববর্তী নবীদের কাহিনি, তাক্বদীরে বিশ্বাস, জান্নাত এবং জাহান্নাম। বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ১৫ | আবিসিনিয়ায় হিজরত
সীরাহ এর এই পর্বে আমরা আজকে আলোচনা করবো আবিসিনিয়ায় হিজরত নিয়ে। প্রকাশ্য দাওয়া শুরু হবার পর মক্কায় মুসলিমদের অবস্থা এতোটাই কঠিন হয়ে পড়ে যে সেখানে থাকা অনেকের পক্ষেই আর সম্ভব হচ্ছিল না। আমরা যারা মুসলিম দেশে বড় হয়েছি, তারা সাধারণত এ ধরণের পরিস্থিতির মুখোমুখি হই না। ইসলামের জন্য, ঈমানের জন্য নিজের দেশ, নিজের এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে বাধ্য হওয়া — নিঃসন্দেহে এটা কঠিন একটি পরীক্ষা। একজন মানুষের নিজের দেশ যতো রুক্ষ হোক, যতো বৈরি হোক, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা থাকুক — বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ১৬ | স্রোতের বিপরীতে তারা ক’জন
বর্তমান সময়ে পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ ইসলামের নাম জানে সত্য, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ইসলাম আমাদের সময়ে একটি অপরিচিত ধর্মে পরিণত হয়েছে। এর কারণ হলো বর্তমান সময়ে মানুষের বিশ্বাস এবং সমাজব্যবস্থার সাথে ইসলামের বিশ্বাস এবং মূল্যবোধগুলো যায় না। ইসলামকে একটি সেকেলে ধর্ম হিসেবে প্রচার করা হয়। বলা হয়, ইসলাম একটি মধ্যযুগীয় ধর্ম, আধুনিক সময়ে ইসলামের রীতিনীতির কোনো স্থান নেই, বর্তমান বাস্তবতায় ইসলাম একটা অচল ধর্ম। ইসলামকে আঁকড়ে ধরতে গেলে এই যুগে আমরা পিছিয়ে যাবো। ইত্যাদি ইত্যাদি। বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ১৭ | উমার ইবন খাত্তাব রা. এবং হামযা ইবন আবদুল মুত্তালিব রা. এর ইসলাম গ্রহণ
সীরাহ অডিও সিরিজে আমরা এখন অবস্থান করছি নবুওয়াতের পঞ্চম বছরে। আগের দিকের ঘটনাগুলোর দিকে ফিরে তাকানো যাক। আল্লাহর রাসূল (সা) হেরাগুহায় নবুওয়াত পাওয়ার পর তাঁর নিকটাত্মীয় এবং কাছের মানুষদের ইসলামের দিকে আহবান শুরু করেন। এভাবে চলছিল প্রায় তিন বছর। তখন কুরাইশরা ইসলাম সম্পর্কে জানলেও খুব একটা গা করেনি। তিন বছর পর যখন প্রকাশ্যে রাসূলুল্লাহ (সা) ইসলামের দাওয়াত নিয়ে এলেন এবং কুরাইশদের মিথ্যা দেবতাদের অস্বীকার করা শুরু করলেন, তখন কুরাইশরা শুরু করলো তাদের মিডিয়া প্রপাগান্ডা, যা  বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ১৮ | বয়কট
উমার এবং হামযার ইসলাম গ্রহণ ছিল কুরাইশদের জন্য একটা বড় ধাক্কা। এরপর যখন বনু হাশিম এবং বনু মুত্তালিব রাসূলুল্লাহকে (সা) রক্ষা করার জন্য একতাবদ্ধ হলো, সেটা ছিল কুরাইশদের জন্য দ্বিতীয় ধাক্কা। তারা বুঝতে পারলো ব্যক্তি মুহাম্মাদ (সা) আর একা নন, তাঁর সাথে তাঁর গোত্রও আছে। তাই ইসলামের অগ্রগতি থামিয়ে দিতে তারা আগের যেকোনো পন্থার চাইতে নিষ্ঠুর একটি পন্থা গ্রহণ করলো আর সেটি হচ্ছে বয়কট।কুরাইশদের বিভিন্ন গোত্র তখন বনু হাশিম এবং বনু আল মুত্তালিব–এ দুটো গোত্রের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে তাদেরকে সামাজিক ও  বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ১৯ | দুঃখের বছর
মাক্কী জীবনের দশম বছরকে বলা হয় আমুল হুযন বা দুঃখের বছর। কুরাইশ কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস পরের ঘটনা, যে মানুষটি এতদিন ধরে রাসূলুল্লাহর (সা.) সুখে-দুঃখে তাঁর পাশে ছিলেন সেই আবু তালিব মৃত্যুশয্যায় শায়িত। রাসূলুল্লাহ (সা.) আবু তালিবের পাশে বসে তাকে বললেন, ‘চাচা, আপনি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলুন। আপনি স্বীকার করে নিন আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমাকে এ কথাগুলো বলে যান যেন আমি শেষ বিচারের দিন আপনার পক্ষ হয়ে আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য দিতে পারি, আপনার শাস্তি মওকুফের  বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ২০ | আল ইসরা ওয়াল মি’রাজ
আবু তালিব আর খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা যখন বিদায় নিলেন, শুরু হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য দুঃখের বছর। আবু তালিবের অনুপস্থিতিতে কুরাইশরা অনেক বেপরোয়া হয়ে ওঠে, যা আমরা আগেই আলোচনা করেছি। এর উপর যখন তাইফের লোকেরা রাসূলুল্লাহকে (সা) খুব বাজেভাবে প্রত্যাখ্যান করলো, তখন সেটা ছিল কষ্টের ওপর আরো কষ্ট যোগ করলো। নিরাপত্তাহীনতা, অসহায়ত্ব আর একাকীত্ব যেন রাসূলুল্লাহকে (সা) ঘিরে ধরলো। আর তখনই ঘটলো এক বিস্ময়কর ঘটনা — আল ইসরা ওয়াল মি’রাজ। বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ২১ | নতুন ভূমির সন্ধানে
তাইফ থেকে ফেরার পর রাসূলুল্লাহ (সা.) কার্যত নিরাপত্তাহীন হয়ে গেলেন। কারণ, একে তো আবু তালিব নেই, দ্বিতীয়ত তাইফের আল্লাহর রাসূলের (সা) সাথে কী হয়েছিল সেই কাহিনী মক্কাবাসীরা জেনে যায়। তাই একাকী মক্কায় প্রবেশ করা তাঁর জন্য নিরাপদ ছিল না। তাই তিনি নিজ শহরে প্রবেশ করার জন্য নিরাপত্তা চেয়ে উরাইক্বাতের মাধ্যমে আল আখনাস বিন শুরাইকের কাছে সংবাদ পাঠালেন। আখনাস বিন শুরাইক ছিল মক্কার লোক, তার সাথে কুরাইশদের সম্পর্ক ভালোই ছিল, যদিও সে কুরাইশী ছিল না। রাসূলুল্লাহর (সা.) কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ২২ | ইসলামের দূর্গঃ আল-আনসার
আগের পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম মক্কার বাইরে বিভিন্ন গোত্রের সাথে রাসূলুল্লাহর (সা) দাওয়াত এবং তাদের কাছে প্রতিরক্ষা চাওয়ার বিষয়ে। দুটি গোত্রের কথা আমরা আলোচনা করেছি, বনু কিন্দা এবং বনু আমীর ইবন সা’সা’ — যারা আল্লাহর রাসূলকে (সা) প্রটেকশন দিতে রাজি হয়েছিল সত্যি কিন্তু সেটা ছিল রাজনৈতিক কারণে, ক্ষমতা লাভের আশায়। তারা স্বপ্ন দেখছিল আল্লাহর রাসূলের (সা) নেতৃত্বগুণ এবং ব্যক্তিত্বকে কাজে লাগিয়ে একদিন তারা সমগ্র আরবের রাজা হবে। কিন্তু আল্লাহর রাসূল (সা) তাদেরকে ক্ষমতার কোনো আশ্বাসই দেননি।  বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ২৩ | আক্বাবার দ্বিতীয় শপথ
যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আনসারদের কাছে তাঁর চুক্তির শর্তগুলো সম্পর্কে বলেছিলেন, তখন তাঁদের প্রশ্ন ছিল, ‘বিনিময়ে আমরা কী পাবো?’ রাসূলুল্লাহ (সা.) এক শব্দে উত্তর দিয়েছিলেন, জান্নাহ। এখানে থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, সকল ইসলামী কর্মকাণ্ডের একমাত্র উদ্দেশ্য শুধুমাত্র জান্নাত, আল্লাহ আযযা ওয়াজালকে সন্তুষ্ট করাই প্রতিটি কাজের মূল উদ্দেশ্য — খ্যাতির জন্য নয়, অর্থের জন্য নয়, সামাজিকতার জন্যেও নয়। প্রতিনিয়ত নিয়তকে পরিশুদ্ধ করে নিজেদের জিজ্ঞেস করা উচিত — ইসলামের জন্য যে ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করছি, তা কেন করছি? বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ২৪ | সাহাবীদের রা. হিজরত
আজকের পর্বে আমরা আলোচনা করবো মক্কা থেকে মদীনার উদ্দেশ্যে মুসলিমদের হিজরত নিয়ে। দীর্ঘ ১৩ বছর মক্কায় অবস্থানের পর রাসূলুল্লাহ (সা) ও তাঁর সাহাবারা মদীনায় হিজরত করেন। এই হিজরত কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। এর পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি বছরের প্রস্তুতি। এর আগের দুটো পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম মদীনায় কীভাবে ইসলাম প্রবেশ করলো এবং একটি শক্তিশালী অবস্থান গড়ে নিল। মদীনাকে স্থায়ী আবাস হিসেবে নির্ধারণ করতে রাসূলুল্লাহ (সা) প্রায় দুই বছর সময় নিয়েছিলেন। তিনি মুসআবকে তাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন।  বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ২৫ | রাসূলুল্লাহর সা. হিজরাহ
মুশরিকরা যখন দেখলো মুসলিমরা একে একে পরিবার-পরিজন নিয়ে ধন-সম্পদ ফেলে মদীনায় জমা হচ্ছে তারা খুব অস্থির হয়ে গেল। মুসলিমদের মদীনায় হিজরতের ফলাফল কী হতে পারে তা তাদের অজানা ছিল না। তারা টের পেয়েছিল আওস এবং খাযরাজ গোত্র রাসূলুল্লাহর নেতৃত্বে এক হচ্ছে এবং তাদের মিলিত শক্তির সাথে পেরে ওঠা সহজ কথা নয়। তারা দুটি বিষয় নিয়ে আশঙ্কাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। প্রথমত, মদীনায় মুসলিমদের ঘাঁটি গড়ার অর্থ হল, তাদের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক পথ অনিরাপদ হয়ে যাওয়া, কেননা কুরাইশদের ব্যবসা ছিল ইয়েমেন থেকে সিরিয়া পর্যন্ত বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ২৬ | ইয়াসরিব হলো মদীনা
আজকে আমরা একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছি, আর তা হচ্ছে আল্লাহর রাসূলের (সা) মদীনার জীবন। এই অধ্যায়টি আগের অধ্যায়ের চাইতে আলাদা, কারণ এখানে মুসলিমরাই শক্তিশালী, তাদের হাতেই ক্ষমতা। আল্লাহর রাসূল (সা) যখন মক্কা থেকে মদীনায় আসেন, তখন আল্লাহর কাছে একটি দুআ করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির আগে আমি তো কিছুই ছিলাম না। হে আল্লাহ! দুনিয়ার ভয়াবহতা, কালের কঠোরতা এবং দিবা-রাত্রির বিপদাপদকে উৎরে যেতে তুমি আমাকে সাহায্য করো বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ২৭ | মসজিদে নববী নির্মাণ
মদীনায় পা ফেলার পর প্রথম দিন থেকে নবীজি এই রাষ্ট্রকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ শুরু করেন। মদীনার শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জন ও বজায় রাখার জন্য তিনি কাজ শুরু করেন। স্বাভাবিকভাবেই নবগঠিত একটি রাষ্ট্রে অনেকগুলো জটিলতা থাকে। নবীজি (সা) সেগুলোকে চিহ্নিত করেন এবং সে অনুযায়ী বেশ কিছু প্রজেক্ট হাতে নেন। এই রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ কিছু দুর্বলতা যেমন ছিল, তেমনি ছিল বহিঃশত্রুর আক্রমণের হুমকি। যেমন মুহাজিররা মদীনায় আসার কারণে মদীনায় কিছুটা অর্থনৈতিক ক্রাইসিস তৈরি হয়। বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ২৮ | ভ্রাতৃত্বের সূচনা
সীরাহ অডিও লেকচার সিরিজের ২৮ তম পর্বে আলোচনা করা হয়েছে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে মুআখা বা ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা। তৎকালীন আরব সমাজ ছিল প্রচণ্ডভাবে বিভক্ত একটি সমাজ। এই বিভক্তির পেছনে মূল কারণ ছিল তাদের গোত্রীয় ধ্যান-ধারণা। একেকটি গোত্র ছিল একেকটি বড় পরিবার, আর প্রত্যেকে প্রত্যেকের গোত্র নিয়ে গর্ব করতো। নিজ গোত্রে ঠিক করুক আর ভুল করুক হোক, প্রত্যেকে নিজ গোত্রের পক্ষ নেবে। স্রেফ গোত্রীয় সম্মান আর মর্যাদা রক্ষার জন্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হতে আরবরা দ্বিধাবোধ করতো না। বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ২৯ | মদীনার সনদ
মদীনায় ছিল বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাস ও গোত্রের বসবাস। তিন ধর্মের লোক ছিল মদীনায় — মুসলিম, ইহুদি ও মুশরিক। মুসলিমদেরকে প্রথমে দু’ভাগে ভাগ করা যায় — মক্কা থেকে আগত মুহাজির এবং মদীনার স্থানীয় মুসলিম, যাদের বলা হতো আনসার। মুহাজিরদের বেশিরভাগ ছিলেন কুরাইশ, তবে কুরাইশ কোনো একটি গোত্র ছিল না, বরং অনেকগুলো গোত্রের সম্মিলন ছিল কুরাইশ। মুহাজিরদের মধ্যে উসমান ইবন আফফানের (রা) মতো মুসলিম ছিলেন যিনি ছিলেন মক্কার সম্মানিত গোত্র উমাইয়ার একজন সদস্য। আবার মুহাজিরদের মধ্যে বিলাল (রা) ছিলেন, যিনি ছিলেন একজন বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ৩০ | মুসলিম বাহিনী গঠন
জিহাদের হুকুম নাযিল হয়েছে কয়েকটি ধাপে, ইবনুল কায়্যিম তাঁর যা’দ-উল-মাআদ গ্রন্থে বলেছেন প্রাথমিক যুগে জিহাদ নিষিদ্ধ ছিল, জিহাদ করার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিছু মুসলিম মাক্কী যুগে একবার নবীজির (সা) কাছে জিহাদ করার অনুমতি চাইলেন। তখন নবীজি তাদের বললেন, ‘তোমরা ধৈর্য ধরো। আমি এখনো যুদ্ধ করার ব্যাপারে আদেশপ্রাপ্ত হইনি।’ মাক্কী যুগে অস্ত্র না ধরাই ছিল মুসলিমদের ওপর হুকুম। প্রথম ধাপে রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলিমদের ধৈর্যধারণ করতে বলেছেন। মক্কায় যারা ঈমান এনেছিলেন তাদের উপর কাফেররা নানাভাবে অত্যাচার করত তবুও তাদেরকে  বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ৩১ | মদীনার দিনগুলি
মুসলিমদের জন্য মদীনায় আল্লাহর রাসূলের হিজরাহ ছিল এক মহা আনন্দের ঘটনা। আল্লাহর রাসূল (সা) যখন মদীনায় এলেন তখন মদীনা ছিল আলোকিত, চারদিকে সাজ সাজ রব। কিন্তু এই খুশিতে আসলে সবাই শরীক ছিল না। মদীনার মুশরিক আর ইহুদিরা খুশি হতে পারে নি। এর কারণ হলো তাদের অহংকার, গোঁড়ামি এবং হিংসা। ইহুদিদের মনের অবস্থা আঁচ করা যায় মদীনার দুই শীর্ষস্থানীয় ইহুদি নেতা–হুয়াই ইবন আখতাব আর আবু ইয়াসির ইবন আখতাবের একটি সংক্ষিপ্ত কথোপকথন থেকে। এই ঘটনাও মদীনার একদম প্রথমদিকের ঘটনা। এ দু’জন ব্যক্তি ছিল যথাক্রমে বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ৩২ | জিহাদের সূচনা
আজকের পর্বে আমরা আলোচনা করবো মদীনার ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিরক্ষা ও ইসলামের দাওয়াতকে সম্প্রসারিত করার জন্য রাসূলুল্লাহ (সা) কী কী সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। সত্যি বলতে পুরো মাদানী যুগ ধরে একটা বড় অংশ জুড়ে সীরাতে আলোচিত হয় এসব সামরিক অভিযান বা জিহাদের কাহিনী। একেকটি সামরিক অভিযানের প্রকৃতি ছিল একেক রকম। কোনোটা ছিল আক্রমণাত্মক, কোনোটা ছিল রক্ষণাত্মক। কিছু অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল স্রেফ শত্রুদেরকে ভীত সন্তস্ত্র করা, কোনো অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল কোনো গোত্রকে বশ মানতে বাধ্য করা, কোনো অভিযানের উদ্দেশ্য বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ৩৩ | বদর যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও প্রস্তুতি
আতিকা বিনত আবদুল মুত্তালিব ছিলেন রাসূলুল্লাহর (সা.) ফুপু, তিনি মক্কায় থাকতেন। ঘটনার এ পর্যায়ে একরাতে তিনি একটি স্বপ্ন দেখেন। আতিকা তখনও মুসলিম হননি, তিনি মুসলিম হয়েছিলেন মক্কা বিজয়ের পরে। স্বপ্নে তিনি দেখলেন যে একটা লোক উটে চড়ে দ্রুত মক্কার দিকে ধেয়ে আসছে এবং সে মক্কার অধিবাসীদেরকে চিৎকার করে ডাকছে। তার উট প্রথমে কাবাঘরের উপর, তারপর মক্কার এক পাহাড়ের চূড়ার উপর গিয়ে দাঁড়াল। তারপর সে কুরাইশদের সাবধান করে বলল, ‘তিনদিনের মধ্যে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে!’ এ কথা বলে লোকটি একটি পাথর নিয়ে পাহাড়ের  বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ৩৪ | ময়দানে মুখোমুখি
সীরাহ সিরিজের ৩৪তম পর্বে আমরা অবস্থান করছি বদর যুদ্ধে প্রাক্কালে। বদর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল কুরাইশদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক কাফেলা আক্রমণকে কেন্দ্র করে। মুসলিমদের কোনো ধারণাই ছিল না তারা একটি কাফেলা আক্রমণ করতে গিয়ে এত বিশাল বাহিনীর সম্মুখীন হবে। অন্যদিকে কুরাইশরা চাচ্ছিল একটা বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে হামলা করে মুসলিমদের এমনভাবে গুড়িয়ে দিতে যেন পুরো জাযিরাতুল আরবের লোকেরা একটি বার্তা পায় আর তা হলো — কুরাইশদের সাথে কখনো লাগতে যেও না! আল্লাহ তাআলা বলেন, বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ৩৫ | বদরের ময়দানে
বদরের যুদ্ধের কিছুক্ষণ আগে রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন সৈনিকদের সারি সোজা করছিলেন তখন একটা অদ্ভূত ঘটনা ঘটে। নবীজির (সা) হাতে একটি তীর। তিনি যুদ্ধে সেনাদের সারি সোজা করছেন। তিনি এমনভাবে সৈনিকদের সারি সোজা করে সাজাতেন যেন মনে হতো তিনি সৈনিকদের সারি নয় বরং সালাতের কাতার সোজা করছেন, অর্থাৎ একদম সোজা রাখতেন। সারিতে দাঁড়ানো এক সৈন্যের নাম ছিল সাওয়াদ বিন গাযিয়াহ (রা)। তিনি তার সারি থেকে একটু সামনে এগিয়ে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ তাঁর পেটে আস্তে করে তীর দিয়ে একটি খোঁচা দিয়ে তাঁকে সারির ভেতর ঠেলে দিলেন। বিস্তারিত
ডাউনলোড
পর্ব ৩৬ | বদর যুদ্ধের কিছু টুকরো ঘটনা
বদরের যুদ্ধ এমন একটি দিন যা আকাশ ও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ও নিকৃষ্ট সব সত্তাকে মুখোমুখি করেছিল। শয়তানদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট শয়তান ইবলিস সেদিন উপস্থিত ছিল, তেমনি উপস্থিত ছিলেন ফেরেশতাদের মধ্যে সেরা জিবরীল। বদরের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল আবু জাহল, উক্ববাহ আর উতবাহ, অন্য পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মুহাম্মাদ (সা), আবু বকর এবং উমার (রা)। আর তাই এ দিনটি ছিল সত্যিকারের ফুরক্বানের দিন, যা সত্য আর মিথ্যাকে স্পষ্টভাবে আলাদা করে দিয়েছিল।  বিস্তারিত
ডাউনলোড